বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উচ্চারিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের রাষ্ট্রচিন্তা, ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক অভীপ্সা এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান একসঙ্গে এসে মিলিত হয়েছে। এই সন্ধিক্ষণকে অর্থবহ করে তুলতে হলে রাষ্ট্র ও রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে নাগরিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে দৃশ্যমান ও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা অপরিহার্য।
এই উপলব্ধি থেকেই প্রণীত হয়েছে নাগরিক ইশতেহার— যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় তৃণমূল থেকে উঠে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের প্রত্যয়কে একত্র করেছে। এটি কোনো চূড়ান্ত বা অনমনীয় ঘোষণাপত্র নয়; বরং জনগণের সমষ্টিগত দরকষাকষির একটি হাতিয়ার।
নাগরিক ইশতেহার একটি ক্রমপরিবর্তনশীল জীবন্ত দলিল। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের আলোকে এটি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা, পরিমার্জন ও হালনাগাদ করা হবে, যাতে নাগরিকদের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিক প্রতিফলন বজায় থাকে।
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারী ২০২৬