অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি চাই

বাংলাদেশ-মহিলা-পরিষদ-০২

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে গত ৬ মার্চ ২০১৭ বিকাল ৩:০০ মিনিটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবনের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘‘অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি চাই-শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু,  মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি জনাব মফিদুল হক, বিশিষ্ট  শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, জাহাঙ্গীরনগর  বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আক্তার হোসাইন এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জনাব গোলাম কুদ্দুস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌফিকুল হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহলিা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম

মূলত সাম্প্রতিক সময়ে একটি উদ্বেগের বিষয় প্রকাশিত পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িক, অবৈজ্ঞানিক, জেন্ডার সংবদেনশীলতার অভাব আশংকাজনক ভাবে লক্ষ করা গেছে। যা দেশ বাসীর মধ্যে শংকা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যে কারণে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে বর্তমানের শিক্ষানীতিতে যে সাম্প্রদায়িক, অবৈজ্ঞানিক  মনোভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা কোমলমতি শিশুদের বিকাশের শুরুতেই কুঠারাঘাত করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশংকাজনক হবে। আর তাই কোমলমতি শিশুদের বিকাশের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, মানবিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি প্রয়োজন বলে মহিলা পরিষদ মনে করে।

বাংলাদেশ-মহিলা-পরিষদ-০১

সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট গোল বা স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রার মেট ১৬ টি লক্ষের ৪ এবং ৫ নম্বর লক্ষ হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা [Quality Education] এবং জেন্ডার সমতা [Gender Equality]. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এই মতবিনিময় সভাটির লক্ষ সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট গোল বা স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য এই দুটি লক্ষমাত্রার সাথে একিভূত। আলোচকদের আলোচনায় অসাম্প্রদায়িক মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসছে। একই সাথে এই সভায়  নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষে শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচির কথাও বলা হয়েছে

বাংলাদেশ-মহিলা-পরিষদবাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন পাঠ্যসূচির পরিবর্তন আমাদের উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে, পাঠ্যসূচিতে এই পরিবর্তন সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। কারণ শিক্ষা ক্ষেত্রেই যদি সাম্প্রদায়িকতা থাকে তাহলে সেই সাম্প্রদায়িকতা পুরা সামাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী অধিকার রক্ষা এবং পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের যে কৌশলগুলো করা হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে। কিন্তু আমরা আশা করি এই বিপর্যয় এই পরিস্থিতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারবো।

বক্তারা বলেন বাংলাদেশে প্রাথমিক মাধ্যমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্র্থী রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী নিজেকে গড়ে তোলে। বর্তমানে আমরা যে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি তা এই পাঠ্যপুস্তক দেখে বোঝা যায়। কারিকুলাম প্রনয়ণের একটি প্রক্রিয়া আছে।এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য দরকার হলে নাগরিক পর্যায়ে একটি শিক্ষা কমিশন থাকতে হবে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা সমূহকে এগিয়ে নিতে হলে মানসম্মত শিক্ষা [Quality Education] এবং জেন্ডার সমতা [Gender Equality] গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মহিলা পরিষদ মনে করে।

Leave a Reply